১.
পেপাল (PayPal) আসলে ফ্রিল্যান্সারদের কাছে
এত জনপ্রিয় কেন?
বিশ্বজুড়ে
পেপালের মতো জনপ্রিয় পেমেন্ট
মেথড দ্বিতীয়টি নেই। এর মূল
কারণগুলো হলো:
·
বায়ার
বা ক্লায়েন্টের ১-ক্লিক পেমেন্ট: আমেরিকা বা ইউরোপের সাধারণ
মানুষ বা বায়াররা ব্যাংক
ট্রান্সফার বা অন্যান্য জটিল
ফর্মে বিশ্বাসী নয়। তাদের
·
বিশাল
বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক: বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশে পেপাল
চালু রয়েছে। ফলে কোনো বায়ারকে
যখন বলা হয় "পেপালে
পে করো", তখন সে কোনো
দ্বিধা ছাড়াই কাজ দেয়।
·
সুরক্ষা
ও বায়ার প্রোটেকশন (Buyer
Protection): পেপালের
রিফান্ড ও সিকিউরিটি পলিসি
অত্যন্ত শক্তিশালী। কোনো ফ্রিল্যান্সার বা
মার্চেন্ট কাজ ঠিকমতো না
দিলে বায়ার তার টাকা রিফান্ড
বা ফেরত দাবি করতে
পারে। এই বিশ্বাসের কারণেই
বায়াররা পেপাল ছাড়া অন্য মাধ্যমে
সহজে পেমেন্ট করতে চায় না।
২.
বাংলাদেশে পেপাল কেন আসছে না
বা কিসের কারণে আটকে আছে? (মূল
সমস্যা)
অনেকেই
মনে করেন সরকার বা
·
মানি
লন্ডারিং ও কঠোর রেগুলেশন (Anti-Money
Laundering Laws): বাংলাদেশ
ব্যাংকের কঠোর আর্থিক আইন
অনুযায়ী, দেশ থেকে সহজে
ডলার বা টাকা বাইরে
পাঠানো যায় না (Capital Outflow Restricted)। কিন্তু পেপালের
নীতি হলো—একটি দেশে
তাদের সেবা চালু হলে
সেখান থেকে যেমন টাকা
ভেতরে আসবে (Inbound), তেমনি সাধারণ মানুষ যেন যেকোনো সময়
বিদেশে টাকা পাঠাতেও পারে
(Outbound)। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশ থেকে ঢালাওভাবে
ডলার বাইরে পাঠানোর অনুমতি দিতে নারাজ।
·
পেপালের
বাণিজ্যিক লাভ-ক্ষতির হিসাব (Market Viability):
পেপাল একটি কর্পোরেট ব্যবসা
প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারদের মাধ্যমে টাকা শুধু ভেতরে
আসবে (যা থেকে পেপালের
লাভ কম)। কিন্তু
বাংলাদেশিরা যদি আন্তর্জাতিকভাবে পেপাল
দিয়ে সাবস্ক্রিপশন কেনাকাটা করতে না পারে,
তবে পেপালের মূল আয়ের রাস্তা
(লেনদেনের ফি) বন্ধ থাকে।
এই ছোট কনজ্যুমার বাজারের
জন্য তারা বিশাল অবকাঠামো
তৈরি করতে আগ্রহী নয়।
·
PayPal 'Xoom' এর
ভুল ধারণা: সরকার ২০১৭ সালের দিকে
‘জুম (Xoom)’ সার্ভিস বাংলাদেশে এনেছিল যা মূলত পেপালেরই
একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু জুম কোনো পূর্ণাঙ্গ
পেপাল ওয়ালেট নয়; এটি কেবল
বিদেশ থেকে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স
সরাসরি ব্যাংকে পাঠানোর একটি রেডিমেড গেটওয়ে।
এটি দিয়ে পেমেন্ট গেটওয়ে
বা মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট সুবিধা পাওয়া যায় না।
৩.
পেপাল দেশে কবে আসবে
এবং কীভাবে আসবে?
২০২৬
সালের বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, সরাসরি পেপাল স্বাধীন ওয়ালেট হিসেবে বাংলাদেশে কবে আসবে, তার
কোনো নির্দিষ্ট বা অফিশিয়াল তারিখ
নেই। তবে এটি যেভাবে
আসতে পারে:
·
ক্রস-বর্ডার পেমেন্ট সহজীকরণ: বাংলাদেশ ব্যাংক যদি ফ্রিল্যান্সার এবং
আইটি খাতের জন্য আন্তর্জাতিক আউটবাউন্ড
পেমেন্ট (বিদেশি টুলস কেনা বা
মার্কেটিং ফি পরিশোধ) আরও
শিথিল করে, তবে পেপাল
তাদের পলিসি নরম করতে পারে।
·
ডিজিটাল
কারেন্সি পলিসি: বাংলাদেশ যদি আন্তর্জাতিক ডিজিটাল
ব্যাংকিং ফ্রেমওয়ার্ক পুরোপুরি চালু করে, তবে
পেপাল হয়তো সরাসরি না
এসে কোনো দেশীয় শীর্ষ
ব্যাংকের সাথে যৌথ পার্টনারশিপে
(Joint Venture) তাদের মার্চেন্ট সার্ভিস চালু করতে পারে।
৪.
পেপাল আসলে বাংলাদেশে কার
কার এবং কীভাবে উপকার
হবে?
যদি
পেপাল বাংলাদেশে আসে, তবে দেশের
ডিজিটাল অর্থনীতিতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন
আসবে। প্রধান উপকারভোগী হবেন তিনটি খাতের
মানুষ:
ক.
ফ্রিল্যান্সারদের উপকার (Freelancers):
·
অফ-মার্কেটপ্লেস বা ডাইরেক্ট ক্লায়েন্ট বৃদ্ধি: বর্তমানে
·
ক্ষুদ্র
ফ্রিল্যান্সারদের
সুবিধা: একদম নতুন ও
ছোট ফ্রিল্যান্সাররা যারা ৫ বা
১০ ডলারের ছোট কাজ করেন,
তারা পেওনিয়ারের উচ্চ ফি এড়াতে
সরাসরি পেপালে পেমেন্ট নিয়ে লোকাল ওয়ালেটে
ট্রান্সফার করতে পারবেন।
খ.
ই-কমার্স ও আন্তর্জাতিক মার্চেন্টদের
উপকার (Cross-border
E-commerce):
·
গ্লোবাল
ড্রপশিপিং ও ওয়েবসাইট বিজনেস: বাংলাদেশের তরুণরা এখন আন্তর্জাতিকভাবে ড্রপশিপিং
বা সফটওয়্যার বিক্রি করতে পারে না
পেমেন্ট গেটওয়ের অভাবে। পেপাল আসলে বাংলাদেশে বসেই
গ্লোবাল ই-কমার্স শপ
খুলে বিশ্বজুড়ে পণ্য বিক্রি করা
যাবে।
গ.
সামগ্রিক দেশের উপকার (National Economy):
·
রেমিট্যান্স
ও রিজার্ভ বৃদ্ধি: অবৈধ হুন্ডি বা
বিভিন্ন ক্রিপ্টো মেথডে যে টাকাগুলো আটকে
থাকে, পেপাল আসলে তার সিংহভাগই
বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে ঢুকবে, ফলে
ফরেন রিজার্ভ বাড়বে।
·
স্টার্টআপ
ও বিদেশী বিনিয়োগ: দেশের নতুন আইটি স্টার্টআপ
ও কোম্পানিগুলো সরাসরি বিদেশি বায়ারদের কাছ থেকে ফান্ডিং
সংগ্রহ করতে পারবে।
ফ্রিল্যান্সিং
পেমেন্ট ও ক্যারিয়ার সম্পর্কিত
যেকোনো প্রশ্নের জন্য আমাদের ইমেইল
করুন:
আমাদের
অন্যান্য ক্যারিয়ার গাইডলাইনসমূহ
·
🔹
·
🔹
